ফরিদপুরে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৯.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা, ভোরে মিলল সূর্যের দেখা
ফরিফরিদপুরে চলতি শীত মৌসুমে এ বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার (০৭ জানুয়ারি) ভোরে এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সামাদুল হক। তিনি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে জানান, এটি চলতি বছরের মধ্যে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সাধারণত ১০ ডিগ্রির নিচের তাপমাত্রাকে আমরা শৈত্য প্রবাহ বলে থাকি। তাই ফরিদপুরের এ তাপমাত্রাকে মাঝারি শৈত্য প্রবাহ বলতে পারি।দপুরে মৌসুমের সর্বনিম্ন ৯.৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা, ভোরে মিলল সূর্যের দেখা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রাতভর ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে ভোরের দিকে শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করে। তবে সকাল ৭টার দিকে সূর্যের দেখা মিললে ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে যায় এবং শীতের প্রকোপ কিছুটা কমতে শুরু করে। তবুও সকাল ৯টা পর্যন্ত বাতাসে শীতল অনুভূতি বিরাজ করে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশাচালক ও পথচারীরা। ভোরে কাজে বের হওয়া শ্রমজীবী মানুষদের অনেককেই খোলা আকাশের নিচে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। শহরের বিভিন্ন মোড়, বাসস্ট্যান্ড ও লঞ্চঘাট এলাকায় শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন অসহায় মানুষজন।
শীতের প্রভাবে স্বাভাবিক জনজীবনেও প্রভাব পড়েছে। সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। অনেক অভিভাবকই সন্তানদের ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার আশঙ্কায় দেরিতে স্কুলে পাঠিয়েছেন। হাসপাতালগুলোতেও বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও বয়স্ক রোগীদের চাপ লক্ষ্য করা গেছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। চিকিৎসকরা বয়স্ক ও শিশুদের শীত থেকে সুরক্ষিত রাখতে উষ্ণ পোশাক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে কৃষি খাতেও শীতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের বীজতলায় কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে এখনো বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন রাতের তাপমাত্রা কম থাকতে পারে এবং শীতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সবাইকে শীতজনিত সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply